বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭:০৯

বড় সুখবর পোশাক শ্রমিকদের জন্য

বড় সুখবর পোশাক শ্রমিকদের জন্য

এমটিনিউজ ডেস্ক : শ্রমিক অসন্তোষ, মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘটনায় চাপে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। দীর্ঘদিনের মজুরি নিয়ে অসন্তোষ নিরসনে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে।

এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আজ গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য সভায় দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজিএমইএ, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম সভার মধ্য দিয়ে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি, মালিকপক্ষের সক্ষমতা এবং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছয় সদস্যের এ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। একই দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।বাংলা সংবাদ

বোর্ড গঠনের পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি। বর্তমানে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, শ্রমিকদের দাবি, এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও শ্রমিকদের আন্দোলন থেমে থাকেনি। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

১ নভেম্বর বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। ওই দিন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মালিকপক্ষের মধ্যে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব মজুরি বোর্ডের সভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।

তিনি বলেন, আমরা কারখানাগুলো চালু রাখার চেষ্টা করছি। শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে শ্রমিকদের ভাঙচুর ও বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানোর দাবি রয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও মালিকপক্ষের সামর্থ্যের মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হবে না। একদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা-দুই দিক সামলাতে হবে বোর্ডকে।

তাই আজকের সভায় শুধু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু নয়, নতুন মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কী দিকনির্দেশনা আসে, সেদিকেই নজর থাকবে শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।